বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলীঃ বরগুনার তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং ও আমতলী উপজেলার চড়কগাছিয়া গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া পচাকোড়ালিয়া নদীর ওপর একমাত্র সাঁকোই ২১ গ্রামের মানুষের ভরসা। সাঁকোটি দিয়ে ৩০ বছর হেঁটে কোনো রকম পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল নেই। এই ২১ গ্রামের মানুষের ভোগান্তির কারন বাঁশের সাঁকোটি।
জানা গেছে , জেলার আমতলী ও তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া, আরপঙ্গাশিয়া, চান্দখালী, কলারং, ঘোপখালীসহ ওই এলাকার ২১ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরসহ জেলার অন্যান্য স্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কলারং ও চড়কগাছিয়া গ্রামের সংযোগ বাঁশের তৈরি সাঁকোটি। প্রায় ৩০ বছর আগে পচাকোড়ালিয়া নদীতে খেয়া নৌকা পারাপার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর স্থানীয়দের উদ্যোগে ওই নদীর ওপর প্রায় তিন শত মিটার বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই স্থানীয় জনতা প্রতিবছরই এই সাঁকো মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। নদীর দুই পাড়ে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এই সাঁকোটির কারণে এই এলাকার উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণ ও রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয় । এতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের। ব্রীজ না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। এতে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয় ওই এলাকার শিশু, নারী, বৃদ্ধ, রোগী ও গর্ভবতী নারীদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই খালের ওপর সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তা আর বাস্তবায়ন করেন না তাঁরা। এখন পর্যন্ত সেতু হয়নি, তাই এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এ বাঁশের সাঁকো স্থাপন করেছে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে , তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং থেকে আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামসহ ২১ গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সাঁকো। গ্রামের ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করছে। এ সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন পূর্ব চড়কগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চড়কগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাহলান বাড়ি কওমি মাদ্রাসা, ড. মো. শহিদুল ইসলাম কলেজে, কলারং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পচাকোড়ালিয়া বাবু আলী দাখিল মাদ্রাসায় ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতে হয় এই সাঁকো ।
কলারং গ্রামের এনজিও কর্মী শহিদুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমাদের জমি থেকে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে খুব কষ্ট হয়। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা দিয়ে কৃষি পণ্য নিতে দ্বিগুণ খরচ হয়। এতে আমরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হই। তিনি আরও বলেন, এখানে সেতুর জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগ নেননি তাই সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ জানায়, বাঁশের সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে ভয় করে। তারপরও যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে এখানে যেন একটি সেতু করে দেন।
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, এখানে সেতু নির্মাণে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। এত গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সেতু নির্মাণের সুপারিশ করা হবে।
আরপাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, সেতু নির্মানের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের নিকট চিঠি দেয়া হয়েছে। দ্রুত সেতু নির্মানের জন্য জোর চেস্টা চালানো হচ্ছে।
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন,একশ মিটারের চেয়ে বড় আকারের সেতু নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প প্রয়োজন। এই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব তৈরি করে সফট কপি ঢাকায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদন হলে কার্যক্রশ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তি লাগবে স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সেতু নির্মানের ব্যবস্হা করা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply